প্রকৃতির সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতিটি ঋতু নতুন রূপে ধরা দেয়। কখনও রঙিন ফুলে, কখনো সবুজের আচ্ছাদনে, আবার কখনো মেঘ-বৃষ্টির স্নিগ্ধতায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে অনন্য।
গ্রীষ্মের আগমনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ফুটেছে জারুল ফুল। উজ্জ্বল বেগুনি রঙের এই ফুল সবুজ পাতার ভিড়ে সহজেই নজর কাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জারুলের এই সমারোহ শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে এক প্রশান্ত পরিবেশ।
রাস্তাঘাটের ধারে, মাঠের পাশে, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের সামনে এখন জারুলের গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। লাইব্রেরি ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকাও বেগুনি রঙে সজ্জিত। লাল, হলুদ ও সাদা ফুলের সঙ্গে জারুলের সমন্বয় ক্যাম্পাসকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য।
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝে এই পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরাও পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বাংলা সাহিত্যে জারুলের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় জারুলের সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। তার ভাষায় 'ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ-দুপুর-চিল একা নদীটির পাশে; জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে।' এই পঙ্ক্তিগুলো জারুলের নীরব ও গভীর সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। গ্রীষ্মের আগাম বর্ষণে ভেজা পরিবেশে জারুলের দৃশ্য প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর চিত্র তুলে ধরে।
ক্যাম্পাসের এই বেগুনি রঙের জারুল ফুল নিয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে জারুল ফুলের বেগুনি সৌন্দর্য এখন সত্যিই মন কাড়ছে। প্রতিদিন ক্লাসে আসা-যাওয়ার পথে এই ফুলগুলো দেখে মনটা একটু হালকা হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝে ক্যাম্পাসের এই প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। বিশেষ করে বিকেলের সময় জারুলের ছায়া আর রঙ মিলে এক অন্যরকম প্রশান্ত অনুভূতি তৈরি করে। অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে এখানে বসে গল্প করি, ছবি তুলি। এই মুহূর্তগুলো ক্যাম্পাস জীবনের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
জারুল ফুলের সৌন্দর্য দেখে এক দর্শনার্থী বলেন, আমি প্রথমবার এই বিশ্ববিদ্যালয় এলাম। এখানে এসে জারুল ফুলের সৌন্দর্য দেখে খুব ভালো লাগলো। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বেগুনি রঙের ফুলে পরিবেশটা খুব সুন্দর হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট, ভবনের আশপাশ সব জায়গায়ই ফুল ফুটে আছে। ব্যস্ততার মাঝে এমন সুন্দর পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে পেরে ভালো লাগছে। সত্যিই জায়গাটা খুব শান্ত আর মন ভালো করে দেওয়ার মতো।
সব মিলিয়ে, জারুলের বেগুনি সৌন্দর্যে সজ্জিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন শিক্ষার্থীদের কাছে এক শান্তি ও স্বস্তির ঠিকানা।
উল্লেখ্য, জারুল একটি নিম্নাঞ্চলের উদ্ভিদ হলেও শুষ্ক পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন ও মালয়েশিয়ায় এই গাছ দেখা যায়। এর ছয় পাপড়ির উজ্জ্বল ফুল সবুজ পাতার ভিড়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ফুলের কেন্দ্রে অসংখ্য পুংকেশর ও হলুদ পরাগকোষ থাকে। ফুল ঝরে গেলেও বৃতি ফলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। গাছের লালচে কাঠ শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী, যা ঘরবাড়ির কাঠামো, নৌকা ও আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
লেখক: সদস্য, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব
আরটিভি/এসএস




